Friday, September 11, 2015

মুক্তিযুদ্ধ আর চেতনার ব্যাপারী

এক পরিবার, যে যার মত সব দলেতেই আছে
ডান-বাম বা এদিক ওদিক সবাই আছে কাছে।
যে দল আসুক, নো প্রবলেম, ব্যবসা রবে খাড়া
কোন চেতনা ? সে যাই হোক; কিসের এত তাড়া?
ভোটের সময় ডুব দেয় সে, দল কি বড় ভাইয়ের চেয়ে?
মৌসুম এলেই দুধের মাছি, চেতনায় সে ওঠে নেয়ে
হেন চেতনা, তেন চেতনা, বাকী সবই দুর
মাসী হলেও, গলায় তাহার মায়ের শাসন সুর।

মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়, তরতাজা সে যুবক তরুন
প্রাণটি তাহার অনেক দামী, কেমনে হারান এ প্রাণ বলুন?
তাই সে দূরে যুদ্ধ থেকেও, দুই নৌকায় পাও
যখন যেমন তখন তেমন, মহাজনের নাও।
বিকেল গেলেই পিয়াজ দিয়ে হয় শুরু তার সাঁঝ
বাকী কথা যায় না বলা, নাই বা বলি আজ
এই সুরতেও, যায় যে হওয়া নামকরা প্লেবয়
না দেখলে, হয়কি মালুম? দুর্জনেরা কয়।

চেয়ার তাহার খুবই প্রিয়,পা ধরতেও এরই তরে
ছোট-বড়, সুশীল-কুশীন, সবার কাছেই ধর্না ধরে।
চেয়ার পেলেই রূপটি তাহার বদলে যে যায় আগের মত
সুশীল সমাজ, সংস্কৃতির, রক্ত চোষেন পারেন যত।
শিল্পী ছেটে কর্মী বানান, শিল্প পালায় ডরে
শিল্প, থাকুক নাইবা থাকুক, চেয়ার যেন ভরে।
নিজেই নিজের শিল্পামোদী, নিজেই সমালোচক
বিলোস্টান্ডর্ড! কোন শালা কয়?  চেতনা বিরোধী লোক।

শিল্প কিংবা শিল্পীর চেয়ে কর্মী তাহার লাগে বেশী
মাথা গুনে হয় ডোনেশন, পরে খাটবে এদের পেশী।
অনেক দোকান একই মানুষ, খেক-শেয়ালের মত
এক ছানা’ই উঠান নামান, পপুলেশন শত।

হাইলি এডুকেটেড তিনি, পায়না নাগাল সার্টিফিকেট
যায় না বলা কখন কোথায় পান যে তিনি ভোটের টিকেট।
শিল্প সংস্কৃতির মাঝে শৈল্পিক এক ব্যবসায়ী সে
মুক্তিযুদ্ধ আর চেতনা পুজি করেই আছেন সে যে।
বললে যে যায় অনেক বলা আজকে নাহয় এটুক থাক
ছাই দিয়ে তায় ধরলে সবাই, থাকবেনা রাখঢাক।।

শেষ কথা তাই বলি, সবাই মনটি দিয়ে শোন
দুরে থাকো ভাল রবে সন্দেহ নেই কোন। 
কেউ যদি তায় ভরসা করে, ভুগবে সে জন ভুগবে
দিগন্তে শুকতারার মত, একলা রোগে ধুঁকবে।

তারিখঃ 31.08.2015

Friday, July 24, 2015

একটি প্রশ্ন

অসভ্যতার চৌকাঠ পেড়িয়েছি অনেক আগেই।
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান সবকিছুর সংস্থান হয়েছে প্রায় সবার
আমরা এখন বিভিন্ন স্তরের ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা।
বুটের চকচকে ভাব আরো কিভাবে বাড়ানো যায় আমরা এখন তার চিন্তা করি
কিংবা একটু পরিপাটি সুট অথবা আরো মসৃন বা আকর্শনীয় ত্বক।
সৃষ্টি হয়েছে শিল্প, সংস্কৃতি
আমরা আরো এগিয়েছি, সৃষ্টি হচ্ছে বিমূর্ত শিল্প।
আমরা ভালোবাসার অনেক উপমা তৈরি করেছি
কষ্টের রং খুঁজে বের করেছি
ফাল্গুনী বাতাসকে রুপান্তর ঘটিয়েছি গানে
জীবন প্রষ্ফুটিত করেছি উপন্যাসে, গল্পে, নাটকে
আমরা জীবন সৃষ্টি করে চলেছি
সৃষ্টি করছি আনন্দ, দুঃখ, অভিমান, অনুরাগ
চলছে জীবনের মানে বের করার অসীম প্রচেষ্টা।
নিজেদের আমরা এখন শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে দাবী করতে পারি।
কিন্ত শ্রেষ্ঠত্বের মানে কি?    
জ্ঞান, বুদ্ধি, শক্তি দিয়ে অন্যদের টা ছিনিয়ে আনা?
নাকি অন্য কিছু?

কাপুরুষের জবানবন্দি

তুমি শোন বা না শোন
কিচ্ছু এসে যায়না।
তোমাদের শোনার দরকারও নেই।
শোনা বা উপলব্ধি করার যে মন
তা অনেক আগেই আগুন জালিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
অগনিত লাশের ভীরে ভয়ার্ত মন
শুধুই বেঁচে থাকার আশায় বেঁচেছে।
স্বপ্ন দেখেছে দু’মুঠো খাবারের।
আশায় থেকেছে একটু ঘুমোনোর।
রক্ত পিপাসু হায়নার দল দাপিয়ে বেড়িয়েছে
রাজপথ, ইমারত, যত নির্ঝঞ্ঝাট এলাকা।
আহত মন দুয়ারে দুয়ারে জানিয়েছে শান্তির আবেদন।
পায়ে চলার, হাতে কড়া নাড়ার শক্তি ছিলোনা।
কাপুরুষ! চিরটাকাল পালিয়েই বেড়িয়েছি।
তোমরা যারা যোদ্ধা; তোমাদের প্রনাম করি;
কৃতজ্ঞতা অপরিসীম। কিন্ত,
যে রাবন সংহার করেছ; তাই যদি তোমরাই হয়ে ওঠো,
তাহলে আর আশার বাকী থাকলো কি?
দুর্জন সর্বদাই পিছনে দরজা দিয়ে ঢুকে সামনে থাকতে চায়।
তারপর মিলেমিশে সব একাকার।
বিবেক ছাড়া তখন আর এই চক্ষু, কর্ন, বুদ্ধি
কোন কাজেই লাগেনা।
তাইতো ওদের মুল লক্ষ্য আজ বিবেক।
চিন্তা করতে যে শক্তি খরচ হয়
তাও আজ আমাদের নিঃশেষ প্রায়।
শুধু এইটুকু জানি,
জন্মগ্রহণে রক্তপাত লাগে;
আর মৃত্যু? সে রক্তপাত ছাড়া নিঃশব্দেও হয়।

Wednesday, July 15, 2015

রাজন

সেই বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে রাজন পর্যন্ত
কি হয় তোমাদের সেই হত অথবা হত্যাকারী?
হয়তো কারো সন্তান. ভাই, বাবা, বন্ধু, স্বজন!
কেন হয় এসব বলতে পারো?
তোমার সন্তান কেন আর একজনের সন্তানকে খুন করে?
তোমার ভাই কেন আর একজনের ভাইকে খুন করে?
তোমার বাবা, বন্ধু বা স্বজন কেন মানুষ খুন করে?
আইন কেন হাতে তুলে নিতে হয় মানুষকে?
সুবিচার সুবিচার পেতে পেতে আরো একটি জীবন অতিবাহিত হয়ে যায়।
হয়তো জীবনেও ধরা দেয় না সেই শ্বেত কপোত।
লাল রং তোমাদের এত প্রিয়?
হতের মত হত্যাকারীর জন্যও তোমাদের প্রান কাঁদে।
বুক ভরা মায়া তোমাদের,
এত ভালবাসা, এত ধৈর্য পৃথিবীতে আর কোন জাতির আছে?
কত জ্বালাময়ী অথবা মর্মস্পর্শী লেখা
কত আকুতি কত বিলাপ!
ভুলে যেতেও সময় লাগে না মোটেও।
সুধুমাত্র লাইক অথবা ভিউ পাওয়ার জন্য হলে ঠিক আছে।
যদি সত্যি চাও তবে আইনের শাসনের, সুবিচারের জন্য এখনি সোচ্চার হও।
হ্যা তোমাকে বলছি যে দিন আনো দিন খাও, সেই থেকে

মসনদের সর্বোচ্চ শিখর পর্যন্ত সকলকে।

Saturday, July 11, 2015

গ্লানি

সময়ের প্রতিটি সিড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে
আমি চলেছি সেই চিরচেনা অচিন গন্তব্যে।
মাঝেমাঝে মনে হয়
ভুল সময় নয়তো ভুল স্থানে জন্মেছি
আবার মনে হয় এখানে এই সময়ে
কারো না কারো তো জন্মাতেই হত,
আমি নয় কেন?
অদৃষ্ট লেখেন যেই বিধাতা
ধিক্কার জানাই তাকে
সাথে সাথে ধন্যবাদ জানাই
অনুভব এবং উপলব্ধির যে মাত্রার সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়েছেন
তার সঠিক পরিচয় এমনকরে হয়ত তার কাছেও অচেনা।

অসুস্থতা

চতুর্দিকে যাত্রায় যেখনেই অবস্থান আমার
চোখ এবং মনে শুধুই অসংগতির উপস্থিতি।
আমি কি অসুস্থ?
নাকি পরিপার্শের অবস্থার পরিনতিতে আক্রান্ত?
নাকি জেনেটিক ত্রুটি?
ফুলের দিকে তাকালে মনে হয়
আর কতটা সময় বাকী এই সৌন্দর্যের?
স্ফীত বক্ষ আর পেলব শরীর আমাকে মনে করায়
বার্ধক্যের জরাজীর্ন কুঞ্চিত ত্বক!
দিন হলে রাতের কথা মনে পরে আর রাত হলে অন্ধকারের।
মানুষের হাসি, আনন্দ আমাকে শংকিত করে।
চারপাশের আনন্দ, উপভোগ্য
কোন কিছুই উপভোগ করতে পারি না আমি
ভবিষৎতের অলীক পরিনতির ভয়ে।
ভয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত
দানবের চোখে চোখ পড়ার ভয়;
অপমানের ভয়, লাঞ্চনার ভয়, নিয়তির ভয়।
আমি কি ধার্মিক?

আমাকে শুধুই তাড়িয়ে বেড়ায়
কতগুলো লোভী নির্লজ্জ মুখ।
যাদের বিশ্বাস আর কর্মের মাঝে বিস্তর ফারাক।
তারাই ক্ষমতাবান।
তারা এক এবং সংগঠিত।
আরসিসি ঢালাই দিয়ে তাদের সম্মান বাঁধানো।
কথা বা অপমান তো দুর থাক;
দুই একটা সুপার টর্নেডো কিংবা সুনামী
তার ভীত নাড়াতে অক্ষম।
যারা সর্বদাই যে কোন মানুষকে রাখে রাস্তার বাইরে।
তারপর তারা সেই রাস্তা ভাঙ্গে আবার গড়ে নিজের ইচ্ছেমত।
চালায় বিবেকহীনতার নির্মম যান।
তার পানির মাছকে ডাঙ্গা তুলে মারে আর
ডাঙ্গার জীবকে বিষাক্ত বাতাসে শ্বাসরুদ্ধ করে।
বিবেকহীন এই সব অমানুষ আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় সপ্নেও।
আমি শুধুই পালিয়ে বেড়াই তাদের কাছথেকে।
কিন্ত পালানো কি সম্ভব?
তারা আমার সপ্নও বিষাক্ত করেছে

আমি আজ তাই ভীষন রকমের অসুস্থ!

Friday, May 15, 2015

জন্মেছি এই দেশে




যখন বুঝতে শিখেছি
তখনই দেখেছি স্বাধীন এদেশ
আশে পাশে যাকেই দেখেছি সবাই এদেশের নাগরিক
ধর্ম অথবা পরিবার যাকে ছোট বলেছে তাকেই ছোট বলে জেনেছি
যাকে বড় বলেছে তাকেই বড় বলে জেনেছি।
আরো কিছুদিন পরে দেখলাম
যার অর্থ বেশী তিনিই ক্ষমতাবান, তিনিই বড়।
আরো পরে দেখলাম।
যার যত ভোট, তিনি তত বড় মানুষ।
শিখলাম এ্টাই গনতন্ত্র।

জানলাম যুদ্ধের কথা, সাহসের কথা, চেতনার কথা, আত্মত্যাগের কথা।
রাজনীতির কথা।


সবই তো মানুষের জন্য!
সত্যি কি তাই?

মানুষ মানুষের জন্য যুদ্ধ করে মানুষ হত্যা করে!
মানুষ চেতনার জন্য মানুষ হত্যা করে!
মানুষ ধর্মের জন্য মানুষ হত্যা করে!
মানুষ রাজনীতির জন্য মানুষ হত্যা করে!

মানুষ যদি মরেই যায় তাহলে কি দরকার এসবের?

দেখলাম..
চলছে তিলে তিলে হত্যার মহাযজ্ঞ
খাদ্যে বিষ, অস্ত্রধারীরা সক্রিয়,
শ্রমিকের রক্তে বাড়ছে বিদেশী ব্যাংকের তহবিল
যে শিক্ষার কোন দাম নেই
সেই শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের জীবনী শক্তির অবসান
চিকিৎসার ভেজাল দাওয়াই, চিকিৎসকের কসাই আচরন
জীবনদায়ী পরিবেশের বস্ত্রহরন, জীবন হরন
যেন পৃথিবীকে অবসবাসযোগ্য করার প্রতিযোগিতা চলছে প্রতিনিয়ত।


সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, জনগন রাজস্বদিয়ে যাদের পালন করে
তারাই এটুলির মত রক্ত চুষছে প্রতিনিয়ত জনগনের
এ যেন ইচ্ছাকৃত দুঃখ বিলাশ আমাদের...

আইন এক একজনের জন্য এক এক রকম
সুবিধা এক এক জনের জন্য এক এক রকম
সম্মান এক এক জনের জন্য এক এক রকম
সবই অর্থের জোরে অথবা ক্ষমতার জোরে ঠিক হয়
অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা মানবিক মুল্যবোধের মুল্য সেখানে নেই বললেই চলে।

তবে কি স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করার সময় এসেছে? কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে?
নাকি নাকি পুনর্বার যুদ্ধের সময় এসেছে?
মানুষ তো অনেকসময় ভুল প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করে।
অথবা অমানুষরা মুক্তির ফায়দা লোটে।
হয়ত অমানুষরা এখন সম্মোহিত করে রেখেছে সাধারনকে।
আমি এমন পোড়া কপাল, সম্মোহিত হওয়ার ক্ষমতাও আমার নেই।
আমাকে অসভ্য, অকৃতজ্ঞ, অসামাজিক বা পাগল যাই বলা হোক
আমার কিছুই করার নেই...
আমাকে বলতেই হবে, যতই তিরস্কৃত হই।
কেউ আমার সাথে থাকুক বা না থাকুক।
আমাকে ভালবাসুক বা না বাসুক।

জন্মেছি এই দেশে।