Saturday, July 11, 2015

গ্লানি

সময়ের প্রতিটি সিড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে
আমি চলেছি সেই চিরচেনা অচিন গন্তব্যে।
মাঝেমাঝে মনে হয়
ভুল সময় নয়তো ভুল স্থানে জন্মেছি
আবার মনে হয় এখানে এই সময়ে
কারো না কারো তো জন্মাতেই হত,
আমি নয় কেন?
অদৃষ্ট লেখেন যেই বিধাতা
ধিক্কার জানাই তাকে
সাথে সাথে ধন্যবাদ জানাই
অনুভব এবং উপলব্ধির যে মাত্রার সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়েছেন
তার সঠিক পরিচয় এমনকরে হয়ত তার কাছেও অচেনা।

অসুস্থতা

চতুর্দিকে যাত্রায় যেখনেই অবস্থান আমার
চোখ এবং মনে শুধুই অসংগতির উপস্থিতি।
আমি কি অসুস্থ?
নাকি পরিপার্শের অবস্থার পরিনতিতে আক্রান্ত?
নাকি জেনেটিক ত্রুটি?
ফুলের দিকে তাকালে মনে হয়
আর কতটা সময় বাকী এই সৌন্দর্যের?
স্ফীত বক্ষ আর পেলব শরীর আমাকে মনে করায়
বার্ধক্যের জরাজীর্ন কুঞ্চিত ত্বক!
দিন হলে রাতের কথা মনে পরে আর রাত হলে অন্ধকারের।
মানুষের হাসি, আনন্দ আমাকে শংকিত করে।
চারপাশের আনন্দ, উপভোগ্য
কোন কিছুই উপভোগ করতে পারি না আমি
ভবিষৎতের অলীক পরিনতির ভয়ে।
ভয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত
দানবের চোখে চোখ পড়ার ভয়;
অপমানের ভয়, লাঞ্চনার ভয়, নিয়তির ভয়।
আমি কি ধার্মিক?

আমাকে শুধুই তাড়িয়ে বেড়ায়
কতগুলো লোভী নির্লজ্জ মুখ।
যাদের বিশ্বাস আর কর্মের মাঝে বিস্তর ফারাক।
তারাই ক্ষমতাবান।
তারা এক এবং সংগঠিত।
আরসিসি ঢালাই দিয়ে তাদের সম্মান বাঁধানো।
কথা বা অপমান তো দুর থাক;
দুই একটা সুপার টর্নেডো কিংবা সুনামী
তার ভীত নাড়াতে অক্ষম।
যারা সর্বদাই যে কোন মানুষকে রাখে রাস্তার বাইরে।
তারপর তারা সেই রাস্তা ভাঙ্গে আবার গড়ে নিজের ইচ্ছেমত।
চালায় বিবেকহীনতার নির্মম যান।
তার পানির মাছকে ডাঙ্গা তুলে মারে আর
ডাঙ্গার জীবকে বিষাক্ত বাতাসে শ্বাসরুদ্ধ করে।
বিবেকহীন এই সব অমানুষ আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় সপ্নেও।
আমি শুধুই পালিয়ে বেড়াই তাদের কাছথেকে।
কিন্ত পালানো কি সম্ভব?
তারা আমার সপ্নও বিষাক্ত করেছে

আমি আজ তাই ভীষন রকমের অসুস্থ!

Friday, May 15, 2015

জন্মেছি এই দেশে




যখন বুঝতে শিখেছি
তখনই দেখেছি স্বাধীন এদেশ
আশে পাশে যাকেই দেখেছি সবাই এদেশের নাগরিক
ধর্ম অথবা পরিবার যাকে ছোট বলেছে তাকেই ছোট বলে জেনেছি
যাকে বড় বলেছে তাকেই বড় বলে জেনেছি।
আরো কিছুদিন পরে দেখলাম
যার অর্থ বেশী তিনিই ক্ষমতাবান, তিনিই বড়।
আরো পরে দেখলাম।
যার যত ভোট, তিনি তত বড় মানুষ।
শিখলাম এ্টাই গনতন্ত্র।

জানলাম যুদ্ধের কথা, সাহসের কথা, চেতনার কথা, আত্মত্যাগের কথা।
রাজনীতির কথা।


সবই তো মানুষের জন্য!
সত্যি কি তাই?

মানুষ মানুষের জন্য যুদ্ধ করে মানুষ হত্যা করে!
মানুষ চেতনার জন্য মানুষ হত্যা করে!
মানুষ ধর্মের জন্য মানুষ হত্যা করে!
মানুষ রাজনীতির জন্য মানুষ হত্যা করে!

মানুষ যদি মরেই যায় তাহলে কি দরকার এসবের?

দেখলাম..
চলছে তিলে তিলে হত্যার মহাযজ্ঞ
খাদ্যে বিষ, অস্ত্রধারীরা সক্রিয়,
শ্রমিকের রক্তে বাড়ছে বিদেশী ব্যাংকের তহবিল
যে শিক্ষার কোন দাম নেই
সেই শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের জীবনী শক্তির অবসান
চিকিৎসার ভেজাল দাওয়াই, চিকিৎসকের কসাই আচরন
জীবনদায়ী পরিবেশের বস্ত্রহরন, জীবন হরন
যেন পৃথিবীকে অবসবাসযোগ্য করার প্রতিযোগিতা চলছে প্রতিনিয়ত।


সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, জনগন রাজস্বদিয়ে যাদের পালন করে
তারাই এটুলির মত রক্ত চুষছে প্রতিনিয়ত জনগনের
এ যেন ইচ্ছাকৃত দুঃখ বিলাশ আমাদের...

আইন এক একজনের জন্য এক এক রকম
সুবিধা এক এক জনের জন্য এক এক রকম
সম্মান এক এক জনের জন্য এক এক রকম
সবই অর্থের জোরে অথবা ক্ষমতার জোরে ঠিক হয়
অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা মানবিক মুল্যবোধের মুল্য সেখানে নেই বললেই চলে।

তবে কি স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করার সময় এসেছে? কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে?
নাকি নাকি পুনর্বার যুদ্ধের সময় এসেছে?
মানুষ তো অনেকসময় ভুল প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করে।
অথবা অমানুষরা মুক্তির ফায়দা লোটে।
হয়ত অমানুষরা এখন সম্মোহিত করে রেখেছে সাধারনকে।
আমি এমন পোড়া কপাল, সম্মোহিত হওয়ার ক্ষমতাও আমার নেই।
আমাকে অসভ্য, অকৃতজ্ঞ, অসামাজিক বা পাগল যাই বলা হোক
আমার কিছুই করার নেই...
আমাকে বলতেই হবে, যতই তিরস্কৃত হই।
কেউ আমার সাথে থাকুক বা না থাকুক।
আমাকে ভালবাসুক বা না বাসুক।

জন্মেছি এই দেশে।

সাম্য (?) বাদ

গাহ সাম্যের গান?
অলীক স্বপ্ন দেখছি বসিয়া মুখেতে লইয়া পান!
সরকার আর জনতার মাঝে ফারাকতো বিস্তর;
সরকারী জীব কুলীণ শ্রেনীর, জনতা নীচুস্তর।
আইন কানুনের জটিল হিসাবে, জনতারা বঞ্চিত
যতটুকু আছে, সেটুকু পেতেও, টাকা লাগে অগনিত
দেবার বেলায় জনগন বেশী, তাহারাই কম দেবে,
আইনের মার প্যাঁচেই তাহার অধিক সুযোগ নেবে
সুযোগ, সুবিধা, জামাইয়ের কোটা সবই তাহাদের তরে
আয়, দান, সেবা সবার উপরে হুমড়ি খাইয়া পরে।
মন্ত্রী আবার তাহাদের তরে, ছোটান কথার ফুল্কি
যে কাজ তাদের, সেটাই হবে স্পিড মানির ভেল্কি
সদাই থাকেন অখুশী সকলে, খুশী করিবার তরে
জনতার হয় পকেট খালি, তাদের পকেট ভরে
স্পিড মানি, ঘুষ, উপহার, দৈনিক সব আছে
পে স্কেল, টাইম স্কেলও বছর ঘুরলে পাছে   
সরকারী সব অস্ত্রধারীরা, রক্ষকের ই বেশে
মারবে, কাঁটবে ভয় দেখাবে লুটবে অবশেষে।
চাকুরীর শেষে, দাড়াইলে এসে, জনগনের কাতারে
এজি অফিসের মাংসাশী কাক, কিছু খুটে খাবে তারে
কিছু খাবে তার, ডাক্তার বাবু, কিছু খাবে, প্রশাসন
বাকিসব খাবে সিস্টেম নামে প্রচলিত কুশাসন
সবাই আসিবে একটি সময়ে, একই কাতারের মাঝে
ভুলে যায় সবে, ক্ষমতা দাপট, সকলি হারাবে সাঝে
এদেশের প্রতি পরতে পরতে সাম্যের অনটন
প্রতিটি মানুষ সহে প্রতিদিন, সইবে কি আজীবন?

কবি নজরুল, করিয়াছে ভুল? গাহি সাম্যের গান?
তাহাকে ভুলিয়া, রচিছ তোমরা অসাম্যের সোপান!

Tuesday, April 28, 2015

গোলমাল

যুগের সাথে তাল মেলাতে যখন যেমন তাই
সাথে আছে প্রয়োজনের তাগিদ জেন ভাই
প্রয়োজনের গ্যাড়া কলে হরেক রকম প্যরা
নিশ্চয়তা নাই, যে যেরকম করছে মাথা ন্যাড়া
লাখো প্রানের আত্মদানে এদেশ স্বাধীন আজ
পিআর, ভিসা যাহোক আজি দেশ ছাড়াটাই কাজ
ছালাম রফিক বরকত আরো ভাষাসেনা কতো!
ইংরেজীর দখলে সকল স্কুল কলেজ যত।
দেশের নেতার চেয়ে আজি বিদেশীরাই দামি
কাজের চেয়ে ভিক্ষা প্রিয়, বাকপটুরাই নামী।
পড়ার চেয়ে পলিটিক্স এ আমদানীটা ভালো;
পথটা যা হোক সাদা কালো, টাকায় সবই আলো
মন্দ ভালোয় কি এসে যায়? সংজ্ঞা বদলে গেছে
“ভালো মানেই অক্ষম লোক, যে রয় সবার পিছে”

সোনার দেশের নষ্ট ধারা, আমরা সবাই দায়ী
বিবেক ভ্রষ্ট, চিন্তা নষ্ট, নষ্ট জীবন তাই
এ দেয় দোষটা ওদের, আবার ওরা এদের দেয়
জনগন আর রাজনীতিবিদ মুখের শান্তি নেয়
আসছে জীবন, যাচ্ছে জীবন, যাচ্ছি রসাতলে
যাচ্ছে সময় মহাকালের, ধুকছি পলে পলে
শুদ্ধ চিন্তা খুঁজতে হবে, নিজের প্রয়োজনে
বুঝতে হবে মন্দ ভাল, বিবেকটারে শেণে

একটুখানি

একটুখানি কথাই ছোটায় কথার’ই ফুলঝুড়ি;
একটুখানি ভালবাসায় সুখের সপ্নপুরী।
একটুখানি চলতে শেখাই, অনেকটা পথ চলা
একটুখানি হাসি, করে অনেক খেলামেলা।
একটুখানি সৎ থাকাতেই অনেক ভালোর শুরু,
একটুখানি সত্য বলাই, সকল কথার গুরু।
একটুখানি গুনের তারিফ? গুণী ঘরে ঘরে।
একটুখানি মন্দ ত্যাগে, সুদিন চরাচরে।  
একটুখানি ইতিবাচক, সকল ভালোর তরে,

ভালোয় ভালোয় আনন্দধাম জগৎবিশ্ব ভরে।

গরু

হাসলেই সে ভালো মানুষ, রাগলে ভালো না
একা থাকলে অহংকারী, মিশলে, খারাপ না।
বক্তা সেযে অনেক ভালো হেসেই কথা বলেন
নির্বাচনে হওয়ার পরেও, সবার সাথে চলেন
কাজ না করুন দেশের তরে, আছে মুখে হাসি
তার হাসিই সবার চেয়ে আমরা ভালোবাসি।
হাসি মুখেই মিথ্যে বলেন, লাগে কিযে ভালো
সপ্ন দেখান লক্ষ টাকার, জ্বালান আশার আলো।

হন যদি সে আমলা, বেজায় ভালো ছাত্র তিনি
হোক সে গরীব বাপের ছেলে, এখন সেই ধনী
টাকা খেলে কাজটি করেন আছে সুনাম তার
জনসেবা এমনতরো ক’জন করেন আর?
দেশ বিদেশে ঘোরেন সদাই অনেক জ্ঞানী লোক
কে দেখে? পান টাকা কোথায়? কার সে দুষ্ট চোখ?

পড়লে ফাঁদে এসব লোকই, আমরা কষ্ট পাই
কষ্টে থাকি, দুঃখে থাকি, এদের শান্তি চাই
বুক পেতে দেই, এদের তরে, মোদের জীবন বাজী
সুখে থাকুক এরা, মোরা দুঃখ পেতেও রাজী
অতি সুখে থাকলে মোদের গা ম্যাজম্যাজ করে
ভুতের জন্য মন আনচান, কখন কিলটি পড়ে   
বুদ্ধি দিয়ে বোঝার চেয়ে দেখে শুনেই খুশী
ভাত খেয়ে আর লাভ কি? মোদের খাওয়াই উচিত ভুষি!