Sunday, January 13, 2019

অস্ত্রধারী সাবধান

ওগো অস্ত্রধারী তোমাদের আজ একটা কথা কই
মোরা দেশের জনগন কখোনো তোমার অধীন নই।
তুমি মোদের টাকায় বেতন নিয়েও বাড়াও উপরি ধন
তাইতো তোমার আজকে এ সুরক্ষিত জীবন
আজ তোমাদের অত্যাচারে অতীষ্ট সব মোরা
দুর্নীতির আর ঘুষ উৎসবের প্রধান কীট যে তোরা
যে মাটিতে দাড়িয়ে আছিস তাকেই করিস ফুটো
লাগাম ধররে নয়তো পুড়বি যেমন পোড়ে কুটো।।

Wednesday, January 9, 2019

চেয়ার কবি


আজ তোমার কাছে একটা আমি গোপন কথা কই
আমি বহুদেখে বিরক্ত আজ নই তো ভীত নই
তুমি চেয়ার পেলেই কলম নিয়ে চেষ্টা কর শুরু
আমি বলছি না তা খারাপ; তবে এখন কেন গুরু?
ঠিক ছিল, যা করার সেটা শুরু থেকেই করা
মাঝ বয়সে কেন আবার হঠাৎ কলম ধরা?
ছন্দপতন বিষয়বস্তু সব কিছু গোলমেলে
অন্তমিলে দ্বন্দ্বমেলে যেন বাচ্চা ছেলে।
আর লিখেই; যারা অধীন তাদের ডেকে বল শোন
কাল গভীর রাতে বড়ই বিচলিত আমার মন
কি আর করা মাঝ দরিয়ায় গেলাম নৌকা নিয়ে
নাতি দীর্ঘ এই কবিতা লিখেছি চাঁদ নিয়ে।
তার পরে হয় পড়া শুরু, উচ্চারনের ধার
এদিক ওদিক কাটছে; কেটে করছে যে চুরমার।
পড়া শেষে মুচকি হেসে; প্রশ্ন চোখে নিয়ে
তাকালেই! সবাই কণ্ঠে মেকি খুশি দিয়ে
এসিআর এর ভয়ে বলেন বাহ বাহ মনোরম
সবাই কি আর এসব পারে এ যে অনুপম।
তুমি ‍মিথ্যে জেনেও নিজকে বোঝাও সত্যি এযে সব।
এর পরে বাঁধভেঙে চলে লেখার কলবর।
যারা অধীন কষ্ট নিয়ে বাধ্য হয়েই শোনে
বসে বসে হাই তোলে আর শেষের প্রহর গোনে।

এই শেষ নয় বছর গেলে বই মেলা যায় এসে
বই ছাপিয়ে অফিসে যাও দোকান নিয়ে বসে
ওমুক সাহেব তমুক সাহেব হাকমেরে ডাক দিয়ে
হেসে হেসে বল নতুন বই এসেছি নিয়ে!

প্রচ্ছদেতে রং দিয়েছেন যে শিল্পী অনেক নাম
এই অফিসের ক্লাইন্ট তিনি এটার অনেক দাম!
ফ্রিতেই দিলেন ভালবেসে প্রীতি উপহার
নিয়ে এসো ওর ফাইলটা আজকে দেব ছাড়।
ছাপিয়ে দিলেন শিল্পপতি তার কাজও এইখানে
দুশো কপি নিজেই নিলেন কি করবে কে জানে?
বাকী আছে আমার কাছে আরো আটশো খানা
তোমরা আমায় ভালোবাসে আমার আছে জানা।।
দেখো যেন বাদ না পড় তোমরা যারা আছো
প্রতি জেলায় সব অফিসের তালিকাটা বাছো
ভুলকরেও কোন শাখা না যায় যেন বাদ
কেউ যদি নানেয় তাকে নেবো যে এক হাত।
এমনতর জোড় করেই যাচ্ছে যত দিন
বাড়াও তোমার বইয়ের ক্রেতা হয়ে লজ্জাহীন।

এসব ছাড়ো; লেখার পশার হয়কি এমন করে?
দিনে দিনে হচ্ছো কবি চেয়ার টাকে ধরে।
থাকবেনা ঐ চেয়ার যেদিন পড়বেনা কেউ আর
তোমার লেখা ডাষ্টবিনেতে স্থান নেবে ময়লার।
যোগ্যতাটা মাথায় থাকে’ খাটাও তোমার মাথা
অফিসটা যে কাজের সেটাই করছ করে যা তা।
বেতনটা দেয় কাজের তরে দেশের জনগন
অফিসেতে সেটাই করা সবচে প্রয়োজন।।

Saturday, August 18, 2018

আত্মকথা



ইদানিং প্রায়ই ভুলে যাই।
অফিসের আলমারি খুলে ভুলে যাই কেন খুলেছি,
সোজা চলতে চলতে ভুলে যাই ডানে মোড় নেবার কথা ছিলো, নাকি বামে?
গান গাইতে গাইতে ভুলে যাই গানের কথা।
অনেক দিন আগে যে চেনা মুখ ছিল-
মনে করতে পারি না, আদৌ কি তাকে কখোনো দেখেছি?
নাম ভুলে যাই, পাসওয়ার্ড ভুলে যাই, 
কথা দিয়ে কথা রাখতে ভুলে যাই।
তাকিয়ে থাকি আর মনে করার চেষ্টা করি.
করতে করতে, কি চেষ্টা করছি তাও ভুলে যাই।
শুধু মনে থাকে, প্রিয় বন্ধু, প্রিয় পরিবার,
প্রিয় জীবন আর অচেনা মৃত্যু...

Monday, August 29, 2016

ভোটের অধিকার




আজ থেকে হোক কথা বন্ধ 
কুলুপ দিলাম মুখে ।
তোমার অপছন্দ হলেই
মুখটি করো ফিকে।

শাসাও আবার ভয়ও দোখাও
যেন মানুষ নই!
নিজের দেশেই পরবাসী
এ দুখ কারে কই?

জনগন আজ পরের ছেলে,
লাগেনা ভোট তার
প্রশাসন আর দলের ছেলে
তাদের ই দরকার?

বলব সেদিন গলাছেড়ে
এ দেশটা আমার।
কভু যদি ফের ফিরে পাই
ভোটের অধিকার।

Tuesday, April 5, 2016

একজন অসহায় পিতা এবং একটি অসহায় জাতি

আর একটু চিন্তা করুন.
নিহত ধর্ষিতা মেয়েটি আপনার মেয়ে।
আপনি এজলাসে দাড়িয়ে আপনার মেয়ের বিচার চাইছেন।
বিবাদী পক্ষ আরো খুটিয়ে খুটিয়ে জানতে চাইছে।
ধর্ষনের বিবরন, আপান মেয়ের চাল চলন...
আপনার মনের মধ্যে মেয়ের মুখটি ভেসে উঠছে
রক্তাক্ত, ক্ষত বিক্ষত....
আপনার নিহত মেয়েটি চরিত্র খারাপ ছিল,
তা প্রমানের চেষ্টা চলছে আপনার সামনেই।
আপনার মনের মধ্যে সেই ছোট বেলার মেয়েটির মুখ
সারা দিন পরে দেখলেই কোলে ঝাপিয়ে পড়তো
মা বলে ডাক দিলেই, সে তার ভুবন ভোলানো হাসিটি দিতো।
জড়িয়ে ধরত, কত খুনসুটি, কত আবদার....
সেই মেয়েটির জন্য আজ আপনি
শত বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মধ্যে বিচার চাইছেন।
রাজনীতি চলছে, ব্যবসা চলছে, জুয়া চলছে
কবিদের কাব্যানুভুতি শাণিত হচ্ছে
অকর্মাদের রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন চলছে
আর আগুন জ্বলছে আপনার মনে।
তারপর একদিন হয়তো আরো একজনের প্রস্থানে
সবার মন থেকে হাড়িয়ে গেল
আপনার সেই আদরের মেয়েটি।
তারপরে এটা শুধু শুধু আপনার একাকীত্বের সঙ্গী,
আপনার জীবনের একটি অসহায়ত্বের কাহিনী।
একজন পিতার স্বাধীন রাস্ট্রে কি এটিই পাওনা ছিলো?

Sunday, March 27, 2016

প্রকৃত জীবন


নিরবে চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে
যে স্বপ্নটা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে
পুরোনো দিনের সিনেমার মত 
তার রং ফিকে হয়ে আসছে দিনের পর দিন।
হয়তো একসময় 
একটি সাদা ক্যনভাস পড়ে থাকবে ধুলোর উপরে!
এমনটিই বাস্তবতা সবার জন্য।
কত ক্ষুদ্র মানুষ; অথচ তার স্বপ্ন?
এই পৃথিবী, ছায়পথ, তার চেয়েও বড় অসীম….
শেষ বিকেলের বোঝাপড়া, গোধূলীর আলোয় মনমড়া।
কিন্ত দৃশ্যমান এই নিস্ফল পথচলাই, জীবনের যাত্রাকে করেছে সচল
যেটুকু দেবার উজার করেই দেবার সময় এখন।
সবটা হয়ত কাজে লাগবে না।
কোনটা দরকারী আর অপ্রয়োজনীয় 
সেটা মানুষ নিজেকে বাদ দিয়ে কখোনোই চিন্তা করতে পারে না,
মানুষের এটাই সীমাবদ্ধতা।
আর এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার নাম প্রকৃত জীবন।

ধর্ষক

এখন আর তোমরা মানুষের দলে পড়োনা
মানুষ হলেও, বুনো হায়নার মত দাত আছে তোমাদের
কি অসীম ক্ষমতা
যে কোন সময় যে কাউকেই
তুমি তোমার দাতদিয়ে ছিন্নভিন্ন করতে পার
মানুষের কাচা মাংশ
ছিন্নভিন্নকরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখতে পারো এই ধরনীর বুকে।
চুম্বকের সমমেরুর মত
সাধারন মানুষ তোমাদের কাছ থেকে ছিটকে সরে যায়
গুটিয়ে যায়, হীনমন্যতায় ভোগে।
বিশ্বভ্রমান্ডের অসীম পরিচয়ের মধ্যে একটি পরিচয় মানুষ।
এই মানুষের মাঝেই তোমরা অসীম পরিচয়ের সৃষ্টি করেছ
তৈরি করেছ অসীম ব্যবধান।
দুরে যেতে যেতে এখন তোমরা এই ছায়াপথ থেকে অন্য ছায়পথে।
সব পুরস্কার তোমাদের, সকল সুবিধা তোমাদের,
সকল উৎকর্ষ তোমাদের, সকল আভিজাত্যও তোমাদের।
আর বাকী মানুষ? ছিটেফোটা বাকী থাকলে সেটুকু তাদের।
তাতেও দারুন বিপত্তি, বিসৃঙ্খলায় দারুন বিরক্তি তোমাদের।
ক্ষুধার সময় কি প্রানীকুল সৃঙ্খলায় আবদ্ধ থাকে?
অসীম আরাম আয়েশে,
প্রানীকুলের সাধারন কিছু নিয়ম কানুনও-
তোমরা তোমাদের নিয়মে চালাতে চাও।
ধরনীর মাটি এবং তোমাদের পায়ের মাঝখানে যে বুটের তলার ব্যবধান
সেই ব্যাবধান
ক্রমশই অসীম হয়েছে তোমাদের হাতের অস্ত্রর আর ক্ষমতার দাপটে।
আজ তাই তোমাদের জন্মদাত্রীকেও তোমরা ছিন্নভিন্ন কর
তোমরা অবয়বে মানুষ, হয়ত আমাদেরই ভাই
তারপরেও প্রার্থনা করি তোমরা যেন মানুষ হতে পারো।
প্রার্থনা করা ছাড়া আমাদের আর কি’বা করার আছে।