Saturday, April 25, 2015

পরজীবি

আপনি কি কবি, কবিতা লেখেন?
-জি না!
আপনি কি গান করেন অথবা গানের শিক্ষক?
-জি না!
গল্প, উপন্যাস বা প্রবন্ধ লেখেন নিশ্চই?
-জি না।
ও তাহলে মনে হয় নৃত্য শিল্পী..
-জি না।
অভিনয়! নির্দেশনা, আলোক প্রক্ষেপন করেন?
-না।
ছবি আকেন?
শিল্প সাহিত্যের কোন মাধমে আপনার অবদান আছে?
অথবা শিল্প সংস্কৃতি উত্তরনে বা বিকাশে কোন বিশেষ ভুমিকা?
-সরাসরি ওরকম কিছুই নেই, তবে আমি সবকিছুর সাথেই আছি।
আমি সংস্কৃতি সেবী, শিল্প প্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী!


আপনি সুন্দর করে সুবিধাবাদী এবং তৈলাক্ত বক্তব্য দেন।
প্রতিটি অনুষ্ঠানেই আপনি মঞ্চের মধ্যমনি হয়ে বসে থাকেন।
একজন গুনী শিল্পীরও আপনার কাছে নত হতে হয়।
সকল পদক এবং সম্বর্ধনা প্রাপ্তির তালিকায় আপনি থাকেন আগে।
সরকারী বেসরকারী অনুদান কোনটাই বাদ দেন না।
যখন শিল্পীরা গান বা আবৃত্তি করেন,
ততক্ষনই আপনি পাশের লোকের সাথে কথা বলেন।
সবসময়েই নারী বেস্টিত থাকেন, এবং নির্লজ্জ ভাবে
তাদের মাথায়, শরীরে হাত বোলান।
আপনার চোখ চকচক করে ওঠে রক্ত-মাংশ লোভী হায়নার মত,
কিন্ত চেহারায় এক সৌম্য রুপ।
আপনাকে অভিনেতা বলা যায়।
ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের প্রতিবাদ দুরে থাক, আপনি তাদের সাথে থেকেছেন।
শিল্পীদের দালালী করে পকেট ভারী করেছেন, অথচ শিল্পিরা থেকেছে বঞ্চিত।
শিল্পীদের পুজি করে, নেতা হয়েছেন, শিল্পীরা সবসময় রয়েছে লক্ষ্যহীণ।
আপনি, আপনারা, শিল্পীদের ভুল বুঝিয়েছেন, তাদের সরলতার সুযোগ নিয়েছেন।
মাঝথেকে আপনাদের ভবিষ্যৎ হয়েছে সুরক্ষিত।
শিল্পীরা এখনো বাঁচার জন্য যুদ্ধ করে, ভবিষ্যতের জন্য যুদ্ধ করে..
আর মরার সময় ভিক্ষা করে।

আর আপনি, আপনারা..
নিশ্চিত জীবনের আনন্দে, সম্মানের গর্বে সমুজ্জল ব্যাক্তিত্ব নিয়ে
এখোনো মধ্যমনি শিল্প সংস্কৃতির, সমাজের।

আপনারা সফল, আপনারা সংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব।

Sunday, April 19, 2015

গেম

এক ঘটনা চাপা দিতে অন্য ঘটনাকে
সাজায় আবার, প্রচার করে নতুন করে তাকে।
মিডিয়াও বেজায় খুশী বাড়ল খানিক কাজ,
ব্রেকিং নিউজ কাটতি বেজায় আনন্দ সাজসাজ।
হত্যা কিংবা, লাঞ্চনা বা সেই ঘটনার ভীড়
পুলিশ সদাই পাশেই থাকে, সেই ঘটনাটির,
শুশীল কুশীল দুটো দলই একে অপরের
দোষ দেয়, আর নিজে বাঁচার চেষ্টা সকলের
দোষী আর নির্দোষীদের হয় একই হয়রানি
ফিফটি ফোরে পকেট বাড়ে, বাড়ে ঘোলা পানি
পর সমাচার, কোর্টের দ্বার আর রিমান্ড রিমান্ড খেলা
পকেট বাড়ে, বেড়েই চলে অপেক্ষারই পালা।
নতুন আরএক ঘটনারই ছকটি তলে তলে
চলছে গুটি, এলেই সবাই আগেরটারে ভোলে
আবার সবাই আগের খেলায় ব্যাস্ত আগের মত    
যে হত বা লাঞ্চিত, তার পোড়া কপাল যত।

Monday, March 16, 2015

------- কোটা



মুক্তি যুদ্ধে যারা যারা যুদ্ধ করেছে
তাদেরকে সব আমজনগনসাপোর্ট করেছে
যারা ছিলো শান্তিবাহিনী, আর রাজাকার
তারাই শুধু দেশের শত্রু পাকিসাপোর্টার
আজকে শুধু তালিকা হয় মু্ক্তিযোদ্ধা যারা
রাজাকার আর আমজনতা এক কাতারে তারা?

করা উচিত তালিকাটা শুধু রাজাকারের
যেন না পায় কোন সুযোগ স্বাধীন বাংদেশের
বাকী সবাই এক চেতনার সবার একই ধারা
কেন শুধু সনদ দিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা?
দল মত আর ধনী গরীব, আমলা কামলা যা’ই
হোকনা সবার সবই সমান যে যেটুকুই পাই -
সনদ বিহীন সবার এদেশ সবাই সমান পাবে
কোটা-টোটা যাকনা চুলোয় সবাই শান্তি পাবে।

Wednesday, March 11, 2015

লাশ

সাদা কাপড় এসে পড়েছে
গরম পানি, বড়ই পাতা, সাবান, ব্লেড, আগর বাতি, কর্পুর সব এসেছে
মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন সবাই প্রস্তত।

গ্রামের প্রায় লোকজন ভীড় করেছে চারপাশে, বিভিন্ন মানুষের মুখে বিভিন্ন কথা-
- আহা বড় ভাললোক ছিলো!
- হ, দেখলে এমন ভাবে কথা কইতো যেন কত দিনের আপন
- আহারে! মরনের সময় কেউ কাছে ছিলো না
- না না পাশের বাড়ির আমিনা ছিলো, মুখে পানি দিছে
- মাইয়া তো একটা বিদেশ থাকে হে আইবো না?
- মনে হয় না, দেশে যে তিন জন আছে তারা পথে।
- মাইয়া পোলা সবাইরে ভাল জায়গায় পড়াইছে, কাউরে কষ্ট করতে দেয় নাই
- এই গ্রামের বেশিরভাগ জমিই তার, গ্রামের প্রায় সব গরীব লোকই তার বাড়িতে, তার ক্ষেতে কাজ করে।
- তোমার মনে আছে, তার বাপে ছিলো এই গ্রামের প্রাইমারি ষ্কুলের মাস্টার
- হ হ দেকছি না, ঐ যে দালানাডা, ওই খানেই তো একটা দোচালা টিনের ঘর ছিলো। আর জমি বলতে ছিলো পুবকান্দার দেড় একর ধানি জমি।
- পোলাডা আছিল পড়াশুনায় ভালো, সব পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট।
- আমার আমার এহোনো মনে আছে যে দিন মেট্রিক পাস দিল, মাস্টার সবাইরে মিষ্টি খাওূয়াইছিলো। কিজানি কয় “হায়ার ফাষ্ট ডিভিশন”
- ভা্র্সিটিতে পড়াইতে পড়াইতে দেড়বিঘা শেষ
- হ হুনছি চাকরী পাইতেও টাকা দেওন লাগছে।
- মানুষটা বড় ভাল ছিল। আগে ছালাম দেওন যাইতো না। সবাইরে আগে ছালাম দিতো।
পাশ থেকে ওপাড়ার গোয়ার যুবক নিচু স্বরে বলে ওঠে-

আছিলো তো তৃতীয় শ্রেনীর সরকারী কর্মচারী এত টাকা পাইলো কই। হুনছি ঢাকায়ও ২ডা বাড়ি আছে।

অপ্রস্তত হয়ে নড়ে চড়ে বসে মুরুব্বিরা।“আর একটা বরফ নিয়া আয় আগেরটা তো শেষ, খেয়াল করবি না?

যুবকটি ছূটে চলেযায় আর একটি বরফ আনতে। অল্প সময়ের মধ্যে নিয়েও আসে আর একটি।

চলছে কোরআন শরীফ পাঠ। আগরবাতির সুগন্ধ উঠোনের বাতাসে।
ঝকঝকে রোদ, ফাগুনের বাতাস বইছে ধীরে।
বাড়ির ভেতর থেকে কান্নার শব্দ গুনগুন করে বাঁজছে।
আশেপাশে ভীড় করেআছে গুনমুগ্ধ, কৃতজ্ঞ মানুষ, সবার মুখে বেদনা ছায়া।
উঠোনের মাঝে, মসজিদের খাটটির উপরে লাশ অপেক্ষমান।

যুবকটি মায়া হয় মৃত লোকটির জন্য, সে ভাবে..
“হয়তো পরজনম আছে, থাকলে লোকটির পুরো পরজনমটাই বরবাদ।
কৈফিয়ত এবং শাস্তি অফুরান জমা হয়ে আছে।
টাকা আছে অনেক, কিন্ত ওপারে তো ঘুষও চলেনা।

Thursday, February 19, 2015

নষ্ট

একটুখানি আগুন ভালো হাড় কাপানো শীতে
একটু খানি আগুন লাগে রান্না করে নিতে
একটুখানি আগুন ভালো ফাগুন রাঙ্গা দিনে
সভ্যতা কি আসতে পারে একটু আগুন বিনে?
সেই আগুনই একটুখানি নিলো অনেক প্রাণ
ভালো কিছু  খারাপ করতে বাঙ্গাল আগুয়ান।

Saturday, February 7, 2015

জাগো বাংলাদেশ

দেশের কি আর সাধ্য বলো রুখবে আগুন রুখবে ত্রাস
দেশ কি জাগে? জনতারা ঘুমায় যদি বারো মাস|
ঘরে বসেই যদি সবাই দেশকে বলি জেগে ওঠ
দেশকি আমার, খাটছে বেগার? বইছে আমার দোষের মুট?
পুড়ছে কি দেশ? পুড়ছে মানুষ, কাল হয়তো তোরই দিন;
ওঠ জেগে ওঠ আজ বাঙ্গালী অনেক শোধার আছে ঋন
যুদ্ধে  নিয়ে সহায়তা, আজ খোটা খাস সিনেমায়
নিজে নিজেই দেশটাকে গড়, লজ্জা শরম যদি হয়
নিজের দেশেই চালাস যদি এমনতর অনিয়ম
স্বাধীনতা আজ হবেরে নয় মাসেরই মতিভ্রম।।

Monday, February 2, 2015

মহাশশ্মান

স্বাধীনতার পরে প্রায় 45 বছর হয়ে গেল
মুক্তিযোদ্ধারা সবাই প্রবীন, মৃত্যুর অপেক্ষায়
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী অত্যাচারের কথা শুনেছি অনেক
বাস্তবে দেখিনি, নাটকে, সিনেমায় দেখেছি কিছু!

চেতনা সমৃদ্ধ যুবকদের দেখেছি ষ্টাইলিষ্ট পাঞ্জাবি চাঁদর পড়ে প্রভাতফেরী করতে
দেখেছি শহীদ মিনারে গলায় ঝড় তুলে কাঁপিয়ে দিতে সমাবেশ
উস্কখুষ্ক চুলদাড়ি দামি হেয়ার ড্রেসারে গিয়ে আরো ষ্টাইলিষ্ট ভাবে উস্কখুষ্ক করে
চেতনাবাদী নারীদের বগলে তিয়ে শরীরের ওম পোয়াতে দেখেছি।
তাদের সকলের চোখ চকচক করছে মাংশের লোভে।

বেয়াড়া সন্তানগুলো
যাদের কোন ক্রমেই লাইনে আনা যাচ্ছিলনা
শেষমেশ মাদ্রাসা;
তাদের ও দেখেছি
পাঞ্জাবি আর গোলটুপি পড়ে এসে সেগুলো খুলে
টিসার্ট পরে সিনেমা হলে পর্ন ছবি দেখেতে
কমদামী সস্তা হোটেলে লাইন দিয়ে উষ্ণ মাংশের স্বাদ নিতে
আর যাদের সে সুযোগও ছিলো না তাদের মধ্যে ও দেখেছি
আরো নির্লজ্জের মত নিজেদের নিজেদেরকে ভোগ করতে দেখেছি।

এ পর্যন্ত সহ্য করা যায়।

কিন্ত মুক্তি যুদ্ধকে পুজি করে কিছু ফটকা ব্যবসায়ী
সরাসরি যুদ্ধ করার নিয়ে যাদের সম্পর্কে তর্ক আছে  
এবং সেসময়ে সকল কুকর্ম করা নিয়ে
যাদের বিষয়ে কোন সংশয়ই নেই
আজ তাদের কার্জকলাপই অসহ্য।

তাদের থলি ভরতে ব্যস্ত আজ সকল রাজ কর্মচারী
শশস্ত্র বাহিনী শুধু তাদেরই নিরাপত্তা দেয়
নিরুপায় জনগন তাদের ভোট দেয়
হয়তো দেয় না; কিন্ত তাতে কিছু এসযায় না
তাদের গড়া প্রক্রিয়ায় আজ ফেসে গেছে জনগন।

স্বাধীন দেশ
অথচ এদেশের শশস্ত্র বাহিনী এদেশের জনগন হত্যাকরে
প্রতি পাঁচ বছরে দেশকে মুক্ত করতে হয় নিজেদের কাছ থেকে
এদেশেরে টাকা লুট হয়ে চলেযায় মালয়শিয়া, লন্ডন সহ বিভিন্ন দেশে
যেমন যেত পুর্বপাকিস্তান থেকে পশ্চিমে
প্রতিটি সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠান আজ শোষক।
নেই রাজস্বের যথাযথ প্রতিদান।
মিথ্যাচার, লুটতরাজ, ক্ষমতাবাজি আর নির্ল্জ্জতার মহোৎসব!

অসহায় জনগন শুধু চেয়ে দেখে
স্বাধীনতার 45 বছর পরে দেশটা আজ একটা মহাশশ্মান
জ্বলছে অর্থনীতি জ্বলছে জীবন্ত মানুষ
পিতার মাতার বুকে সন্তানের দগ্ধ লাশ!
সংসারের উপার্জনের পথ আজ পেট্রলের আগুনে জলছে


লেলিয়ে দেয়া হয়েছে
চেতনা সমৃদ্ধ যুবকদের আর বেয়াড়া সন্তানগুলোকে
একে অপরের বিরুদ্ধে।
যাদের হয়তো কদাচিৎ দেখা হত
ইদের নামাজ পড়ার সময়ে, মিলাদে অথবা জানাযায়।


এতকিছুর পরে এদেশের জনগন
তোমাদের কষ্টে কষ্ট পায়
তোমাদের একাকিত্বে সংগ দেয়
তোমাদের অপরাধকে তারা ভুল হিসেবে ক্ষমা করে দেয়

আর তোমরা তাদের এই ভালবাসাকে নির্বুদ্ধিতা মনে করো
তোমরা বারবার অপরাধ করো জনগন বার বার ক্ষমা করে।
কতদিন?


বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, অসীম অথবা মৃত্যুর মধ্যে কি মুল্য আছে এসবের?
যেখানে একটি উল্কাপিন্ড সমাপ্তি টানতে পারে হাজার বছরের সভ্যতার।
মানুষ হিসেবে পরিতৃপ্ত হতে হলে কি এত মানুষকে বঞ্চিত করতে হয়?
এত মায়ের বুক খালি করতে হয়?
এত সন্তানকে পিতৃহারা করতে হয়?
একটা স্বাধীন দেশকে মহাশশ্মান বানাতে হয়?
কি করে মুক্তি পাবে তোমরা?

স্বাধীন দেশে তো মুক্তিযুদ্ধও হয় না।